প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলাদেশের আইনি অঙ্গন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এক চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা (অ্যাটর্নি জেনারেল) মো. আসাদুজ্জামান পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে তাঁর বর্ণাঢ্য আইনি ক্যারিয়ারে আপাতত ইতি টেনে তিনি সক্রিয় সংসদীয় রাজনীতির ময়দানে পা রাখছেন।
গত ৫ নভেম্বর মো. আসাদুজ্জামান প্রথম প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তিনি তাঁর জন্মভূমি ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে বিএনপির হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চান। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিল ও প্রস্তুতি সামনে রেখে তিনি পদ ছাড়লেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল ইসলাম সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পদত্যাগপত্রটি দ্রুতই রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রথিতযশা আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এবং দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আইনি বা প্রশাসনিক পেশা থেকে রাজনীতিতে আসার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তান আমল থেকেই পেশাজীবীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনেও বহু আইনজীবী ও তরুণ মেধাবীরা শরিক হয়েছিলেন।
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত সংসদীয় গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খেয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭৫ পরবর্তী সামরিক শাসন এবং ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতির রূপান্তর ঘটিয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তন বাংলাদেশে যে ‘নতুন রাজনীতির’ ধারণা তৈরি করেছে, অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামানের পদত্যাগ ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তকে সেই ধারারই অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
২০২৪ সালের অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব একটি বিষয় বারবার তুলে ধরছেন— ‘মেধাবীদের রাজনীতিতে আসা প্রয়োজন’। বিভিন্ন সেমিনারে আলোচকরা বলেছেন:
২০২৪-এর জুলাই-আগস্ট: "পুরানো রাজনীতির বদলে সংস্কারপন্থি ও যোগ্য মানুষের নেতৃত্ব প্রয়োজন।"
২০২৫-এর বর্তমান প্রেক্ষাপট: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ করে নির্বাচনে নামা ইঙ্গিত দেয় যে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত অংশগ্রহণমূলক এবং প্রতিযোগিতামূলক হতে যাচ্ছে।
মো. আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে লড়বেন। এই এলাকাটি বরাবরই রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাঁর পদত্যাগের খবরে ঝিনাইদহের তৃণমূল বিএনপিতে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর একটি নিরপেক্ষ ও সংস্কারকৃত পরিবেশে নির্বাচনের প্রতীক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।
বাংলাদেশের রাজনীতির এই ক্রান্তিকালে মো. আসাদুজ্জামানের মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বের নির্বাচনী লড়াইয়ে নামা সংসদীয় গণতন্ত্রকে কতটা শক্তিশালী করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় প্রেস নোট। ২. জাতীয় আর্কাইভস: বাংলাদেশের নির্বাচন ও সংসদীয় ইতিহাস (১৯৭৩-২০২৪)। ৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন আর্কাইভ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |